দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার ১১ দিন পর আবারো জেলা কমিটির নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজীব এর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,সম্মেলনে ঘোষিত ৭ সদস্যের সমন্বয়ে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচনের পর জেলা কমিটি ওই কমিটি অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও ৫ সদস্যের সাথে কোন সমন্বয় ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
কমিটি ঘোষণার পর তৃণমূল নেতৃত্বের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। দলের সৎ, আদর্শবান, ত্যাগী এবং সক্রিয় নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে দলের মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে যাদের দেখা যায়নি, যারা কখনো আওয়ামী লীগ করেনি, যাদের কেউ চেনেনও না, যাদের কথায় বা নেতৃত্বে ভোটারদের সমর্থন আদায় করা যাবেনা এবং দলের দুঃস্বময়ে খুঁজে পাওয়া যাবেনা এমন লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য দলীয় গ্রুপিং, আধিপত্য বিস্তার এর গ্যারাকলে ২৬ বছরেও উপজেলা সম্মেলন করা য়ায়নি। অবশেষে কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের হস্তক্ষেপে এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাহুবুল আলম হানিফ এমপি,সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সমম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি একেএম সফিউদ্দিনকে সভাপতি, মোস্তফা কামাল চৌধূরীকে সাধারন সম্পাদক, মনিরুজ্জান মাষ্টারকে সহ-সভাপতি, অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির ও এজাজ মাহমুদকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং বীর মুক্তি যোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকারকে সদস্য করে ৬ সদস্যের নাম ঘোষণায় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনের ৪৫ দিনের মধ্যে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করারও নির্দেশ দেয়া হয়। ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণায় স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক একেএম মনিরুজ্জামান মাষ্টার, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার ও নবনির্বাচিত সভাপতি একেএম সফিউদ্দিন এবং সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধূরীসহ ৭ জনের সমন্বয়ে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দির্দেশ দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও ৩ নেতা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা সাধারন সম্পাদকের সমন্বয়হীনতা এবং কমিটিতে কার সমর্থক কতজন কমিটির অন্তর্ভূক্ত করা হবে তা নিয়ে দ্বন্ধে সাড়ে ৪ মাসেও ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি। অবশেষে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও তা প্রকাশ হয় ঘোষণার এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ গত ২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে কমিটি গঠনে নির্ধারিত ৭ সদস্যের মধ্যে জেলা সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার এবং উপজেলা সভাপতি ছাড়া বাকী ৫ সদস্যের সমন্বয় ছাড়া কমিটি ঘোষণা না করায় এবং ৫ সদস্যের অভিযোগে কমিটি স্থাগিত করা হয়।
ঘোষিত কমিটি স্থগিতের বিষয়ে কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম রাজীব বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নির্দেশে স্থগিতাদেশের চিঠি ইস্যু করেছি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচনে আমার সাথে কেন, এমপিসহ ৭ সদস্যের মধ্যে ৫ সদস্যের সাথে কোন সমন্বয় করা হয়নি। জেলা সাধারন সম্পাদকের পছন্দের লোকজনকে দিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এর সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ওনার বক্তব্য নেয়া যায়নি। কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ম, রুহুল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘোষিত কমিটি স্থগিতের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সম্মেলনের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ সদস্যের সমন্বয়ে কমিটি ঘোষণা করার কথা। এখানে ৫ সদস্যের সাথে কমিটির বিষয়ে কোন সমন্বয় করা হয়নি। তাই তাদের অভিযোগে এ কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। ১৫ জানুয়ারী অনুমোদীত ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আপনার স্বাক্ষর রয়েছে, আর বাকী ৬ সদস্যের সাথে যোগাযোগ করে স্বাক্ষর দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাক্ষর দিতেই পারি তবে যোগাযোগের বিষয়ে আর কোন কথা বলতে অপারগাতা জানিয়ে বলেন- আমি মিটিং এ আছি, দপ্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করেন। এ ব্যাপারে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার বলেন, জেলা কমিটির সভাপতি- সাধারন সম্পাক কর্তৃক স্বাক্ষরিত অনুমোদীত কমিটি জেলা দপ্তর সম্পাদক বাদ দেয়ার এখতিয়ার রাখেনা। তিনি অর্থের বিনিময়ে এ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে সবাই ত্যাগী এবং স্বচ্ছ, জয় বাংলা-ধানের শীষ মার্কা লোকদের কমিটিতে রাখা হয়নি।